“তুমি নিজে না চাইলে তোমাকে কেউ তোমার স্বপ্নের পথ থেকে সরাতে পারবে না”
ফেরি চলাচল
ঘাট সরানো না সরানোর রাজনৈতিক অর্থনীতি ঃ
নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে গত ২৩ জুলাই শাহজালাল নামের একটি রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে ফেরিটির অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। একে সরাও, ওকে বসাও; সেতুর কেউ কিসসু করতে পারবে না ইত্যাদি ..
নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে গত ২৩ জুলাই শাহজালাল নামের একটি রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে ফেরিটির অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। একে সরাও, ওকে বসাও; সেতুর কেউ কিসসু করতে পারবে না ইত্যাদি আস্তিন গোটানো বোলচাল শেষ হতে না হতে আবার ধাক্কা।
পদ্মা সেতুতে প্রথম ধাক্কার সপ্তাহ দুয়েক পর ৯ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের আরেকটি রো রো ফেরি ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়।
এরপর চার দিনের মাথায় কাকলি নামের আরেকটি ফেরি। চারদিকে রব ওঠে ষড়যন্ত্রের, নাশকতার। ফেরির মাস্টার ও সুকানি থেকে সবার চাকরি নরম হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ১৮ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঠিক হয় নতুন ঘাট হবে, সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চলাচল করবে না। যেমন কথা তেমন কাজ, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝিরকান্দি নামে পরিচিত সাত্তার মাদবর-মঙ্গলমাঝির ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায় ২১ আগস্ট থেকে। এ ঘাট দিয়ে ফেরিগুলো সেতুর পিলার এড়িয়ে চলতে পারবে।
বলা হতে থাকে, আগের থেকে অনেক সাশ্রয়ী হবে এই নতুন ঘাট। দূরত্ব কমবে দুই কিলোমিটার, সময় বাঁচবে কমপক্ষে কুড়ি মিনিট, বাঁচবে জ্বালানি তেল। কেউ জানতে চাননি, নতুন ঘাট যখন এতই সাশ্রয়ী, তখন এত দিন কেন পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগার ঝুঁকি নিয়ে খরুচে ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা চালু রাখা হলো?
যুক্তি একটা আছে, সেটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। মাঝিরকান্দি থেকে শিমুলিয়ায় ফেরি চলাচলের পথে পদ্মা সেতুর কোনো পিলার পড়বে না ঠিকই, কিন্তু মাঝিরকান্দি ঘাটের সংযোগ সড়ক খুবই সরু। সড়কের কাজ করবে অন্য প্রতিষ্ঠান। সেটা সময়ের ব্যাপার।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাজিরার সড়ক সরু ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। তাই নতুন ঘাট দিয়ে এখনই সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পর সব যানবাহন পারাপারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্রেঃ (প্রথম আলো)
