সুসজ্জিত গাড়িতে স্ত্রী ও মেয়েসহ বাড়ি গেলেন হাইওয়ের কনস্টেবল ফারুক

 

সুসজ্জিত গাড়িতে স্ত্রী ও মেয়েসহ বাড়ি গেলেন হাইওয়ের কনস্টেবল ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০২১ ২০:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুসজ্জিত গাড়িতে স্ত্রী ও মেয়েসহ বাড়ি গেলেন হাইওয়ের কনস্টেবল ফারুক

সুসজ্জিত গাড়িতে চেপে অবসরে গেলেন টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল ফারুক আহমেদ। দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে শেষ কর্মস্থল এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা থেকে আজ সোমবার দুপুরে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেন সহকর্মীরা। এসময় তার স্ত্রী রিনা বেগম ও মেয়ে রুনা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সকল পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ফারুক আহম্মেদ ১৯৮৬ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। প্রায় ৩৭ বছরে ডিএমপি, ঢাকা রেঞ্জ, পাবর্ত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার চাকরিজীবনের শেষ মুহুতে স্মরণীয় করতে বিশেষ আয়োজন করে শেষ কর্মস্থল এলেঙ্গা হাইওয়ে  থানার সহকর্মীরা। দুপুরে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় তার হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও  উপহার সামগ্রী তুলে দেন সহকর্মীরা। এরপর সুসজ্জিত পুলিশের গাড়িতে করে ফারুককে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েসহ টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পাঠানো হয়।

বিদায়ক্ষণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কনস্টেবল ফারুক আহম্মেদ বলেন, আমি কর্মজীবনের দীর্ঘ এই সময়ে অনেক থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। শেষ কর্মস্থলের সহকর্মীরা বিদায়কালের এভাবে সম্মান দিবে কখনো ভাবিনি। আমার পরিবারসহ এই সম্মান পেয়ে আমি আবেগে আপ্লুত। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সুখে-দুঃখে তারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন এটা আজীবন  মনে থাকবে।

ফারুকের তাঁর স্ত্রী রিনা বেগমও স্বামীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সকালেও ভাবিনি এতো সুন্দর বর্ণিল আয়োজনে আমার স্বামীকে বিদায় দেওয়া হবে। আমি ও আমার মেয়ে তাদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ। আল্লাহ তাদের সবাইকে সর্বদা ভালো রাখুক এই দোয়া রইল।

এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, গত ৯ মাস ধরে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানায় কর্মরত ছিলেন ফারুক আহম্মেদ। চাকরির শেষ দিন তার সম্মানে দুপুরে থানার সকল পুলিশ সদস্য নিয়ে একসঙ্গে খাবারের আয়োজন করা হয়। এরপর তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোসহ, ক্রেস্ট  ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে উপস্থিত থেকে সংবর্ধনাকে আরো সাফল্যমণ্ডিত করে। পরে তাদের সবাইকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রবীণ এই পুলিশ সদস্যের চাকরিজীবনের শেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মূলত আমাদের পক্ষ থেকে এই বিশেষ আয়োজন।

এদিকে, সুসজ্জিত গাড়িতে করে পুলিশ সদস্যের অবসরে যাওয়ার এমন বর্ণিল আয়োজনকে ব্যতিক্রমী বলছেন ফারুকের গ্রামের বাসিন্দারা। আনন্দঘন এই আয়োজন দেখতে ফারুকের বাড়িতে ভিড় জমান তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন