দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা-ছেলেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় রংপুর সিআইডি পুলিশের দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক। তবে এএসপি সারোয়ার কবিরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (এসপি) আতাউর রহমান আজ শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও আদেশের লিখিত কাগজ হাতে পৌঁছায়নি। আগামীকাল (রবিবার) নাগাদ বরখাস্তের আদেশ পাওয়া যেতে পারে।
ওই মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হলেও পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। এজাহারভুক্ত আরো পাঁচজন এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে মা-ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দিনাজপুর সদর উপজেলার দশমাইল মোড় এলাকা থেকে সিআইডির তিন সদস্যসহ পাঁচজনকে আটক করে দিনাজপুর জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার
বিকেলে দিনাজপুর আমলি আদালত ৪-এর বিচারক শিশির কুমার বসু তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এএসপিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী লুৎফর রহমানের ভাই খলিলুর রহমান বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় অপহরণ মামলা করেছেন।
মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক, মাইক্রোবাসচালক হাবিব, নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার এনামুল হকের ছেলে ফসিহ উল আলম পলাশকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তারা আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। আসামি পলাশ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া দুই ভুক্তভোগী ও দুই সাক্ষীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের মৃত এন্তাজুল হকের ছেলে আরেফিন শাহ, শহরের ৬নম্বর উপশহর খেরপট্টি এলাকার সোহেল, সুইহারী চৌরঙ্গী বাজারের রিয়াদ, ২ নম্বর উপশহর এলাকার সুমন ও ৩ নম্বর উপশহর এলাকার জাহিদ। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর পাঁচ আসামিকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ।
